পিজি হাসপাতাল ( বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ডাক্তার দেখাবেন? যাওয়ার আগে জেনে নিন সম্পূর্ণ নিয়ম!
ঢাকার শাহবাগের পিজি হাসপাতাল—বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (BMU)-তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র।
কিন্তু প্রথমবার গেলে অনেকেই বুঝতে পারেন না—কোথায় যাবেন, কীভাবে
টিকিট করবেন, কোন বিভাগে দেখাবেন?তাই পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করে দিলাম

শাহবাগ, ঢাকা।
পিজি হাসপাতাল বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (BMU) নামে পরিচিত।
২. কী কী রোগের ডাক্তার দেখাতে পারবেন ও কোন রুমে যাবেন?

বিশেষায়িত হাসপাতাল হওয়ায় প্রায় সকল বিভাগের ডাক্তার দেখাতে পারবেন

আপনার রোগ অনুযায়ী সঠিক বিভাগ নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

আউটডোর / বর্হিবিভাগ ০১ নং ভবন মেডিসিন সংক্রান্ত

২য় তলা

মেডিসিন — কক্ষ ২০১–২০৫

ভাসকুলার সার্জারি — কক্ষ ২০৬

কার্ডিয়াক সার্জারি — কক্ষ ২০৭

কার্ডিওলজি — কক্ষ ২০৮–২১১

ফিজিক্যাল মেডিসিন — কক্ষ ২১২–২১৫

রেসপিরেটরি মেডিসিন — কক্ষ ২১৬–২১৭

৩য় তলা

মাতৃগর্ভদান — কক্ষ ৩০১

ইপিআই টীকা — কক্ষ ৩০৩

শিশু নেফ্রোলজি — কক্ষ ৩০৪

শিশু নিউরো ও গ্যাস্ট্রো — কক্ষ ৩০৫

শিশু মেডিসিন — কক্ষ ৩০৬–৩০৯

নিউরোমেডিসিন — কক্ষ ৩১০–৩১৩

নিউরোলজি — কক্ষ ৩১৪

শিশু কনসালটেন্ট — কক্ষ ৩১৫

শিশু রিউমাটোলজি ও এন্ডোক্রাইনোলজি — কক্ষ ৩১৬

৪র্থ তলা

নেফ্রোলজি — কক্ষ ৪০১–৪০২

হেমাটোলজি — কক্ষ ৪০৩–৪০৪

হেপাটোলজি — কক্ষ ৪০৫–৪০৬

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি — কক্ষ ৪০৭–৪০৮

রিউমাটোলজি — কক্ষ ৪০৯–৪১০

পেডিয়াট্রিক হেমাটো-অনকোলজি — কক্ষ ৪১১–৪১২

৫ম তলা

চর্ম ও যৌন — কক্ষ ৫০১–৫০৫

অনকোলজি — কক্ষ ৫০৬–৫০৭

এন্ডোক্রাইনোলজি — কক্ষ ৫০৯–৫১০

এনেসথেশিয়া — কক্ষ ৫১১

মনোরোগ বিদ্যা — কক্ষ ৫১২–৫১৩

আউটডোর / বর্হিবিভাগ ০২ নং ভবন সার্জারী সংক্রান

২য় তলা

মেডিক্যাল অফিসার (সার্জারি) — কক্ষ ২০১

মেডিক্যাল অফিসার (সার্জারি) — কক্ষ ২০২

কোলোরেক্টাল সার্জারি — কক্ষ ২০৩

হেপাটোবিলিয়ারি এবং প্যানক্রিয়াটিক — কক্ষ ২০৪

ব্রেস্ট ও এন্ডোক্রাইন সার্জারি — কক্ষ ২০৫

কনসালটেন্ট (সার্জারি) — কক্ষ ২০৬

ড্রেসিং রুম — কক্ষ ২০৭

আরএস (জেনারেল সার্জারি) — কক্ষ ২০৮

ইএনটি — কক্ষ ২০৯–২১৩

ইউরোলজি — কক্ষ ২১৪–২১৫

৩য় তলা

মেডিক্যাল অফিসার (অবস ও গাইনি) — কক্ষ ৩০১

মেডিক্যাল অফিসার (অবস ও গাইনি) — কক্ষ ৩০২

মেডিক্যাল অফিসার (অবস ও গাইনি) — কক্ষ ৩০৩

এইচআইভি/এইডস — কক্ষ ৩০৪

মেডিক্যাল অফিসার (গাইনি অনকোলজি) — কক্ষ ৩০৫

মেডিক্যাল অফিসার (ফেটোম্যাটার্নাল) — কক্ষ ৩০৬

ভায়া (VIA) — কক্ষ ৩০৭–৩০৮

আরএস (অবস ও গাইনি) — কক্ষ ৩০৯

পেডিয়াট্রিক সার্জারি — কক্ষ ৩১০–৩১১

নিউরো সার্জারি — কক্ষ ৩১২–৩১৩

৪র্থ তলা

চক্ষু — কক্ষ ৪০১–৪০৫

অর্থোপেডিক সার্জারি — কক্ষ ৪০৬–৪০৯

৩. ডাক্তার দেখানোর আগে কী করবেন?

পুরোনো প্রেসক্রিপশন

আগের সব রিপোর্ট

চলমান ওষুধের তালিকা
সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

বিশেষ করে পুরোনো রোগী হলে আগের রিপোর্ট ফেলে দিয়ে নতুন করে সব পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।

৪. অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা যায় কি?

হ্যাঁ। BMU-এর Doctor Appointment System রয়েছে। রোগীরা অনলাইন সিস্টেমে প্রবেশ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত কার্যক্রম করতে পারেন।

৫. হাসপাতালে গিয়ে কীভাবে ডাক্তার দেখাবেন?
সাধারণভাবে—

প্রথমে সংশ্লিষ্ট বহির্বিভাগ/OPD-তে যাবেন

আপনার সমস্যা বা রোগ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকিট/অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পন্ন করবেন

টিকিটের গায়ে লেখা নির্ধারিত বিভাগে বা রুমে যাবেন

ডাক্তার রোগী দেখবেন

প্রয়োজন হলে পরীক্ষা দেবেন

রিপোর্ট নিয়ে পরবর্তী তারিখে ফলোআপ করবেন।

৬. জরুরি রোগী হলে?


শ্বাসকষ্ট

বুকে তীব্র ব্যথা

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

স্ট্রোকের লক্ষণ

অতিরিক্ত রক্তপাত

খিঁচুনি

গুরুতর দুর্ঘটনা

জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ কোনো সমস্যা
থাকে, তাহলে সাধারণ OPD-এর লাইনে না দাঁড়িয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে যাবেন।

জেনারেল জরুরি বিভাগ কেবিন ব্লকের নিচ তলা।

হৃদরোগ জরুরি বিভাগ ডি ব্লকের নিচতলা

অর্থোপেডিক জরুরি বিভাগ ডি ব্লকের নিচতালা।

নিউরো সার্জারি জরুরি বিভাগ সি ব্লকের নিচতলা।
৭. সময় ও খরচ

আউটডোর প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ৩০ টাকা ভিজিটে যেকোন বিষয় ডাক্তার দেখাতে পারবেন।

সকাল শিফটের টিকিটের কোন লিমিটেশন থাকে না, ২ টার আগে আসলেই দেখাতে পারবেন।

বৈকালিক স্পেশাল সেবা ২০০ টাকা ভিজিটে অধ্যাপক ডাক্তার দেখাতে পারবেন প্রতিদিন বিকেল ২.৩০ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত।

বিকাল সিফটে লিমিটেড টিকেট দেয় তাই আগে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন এই সার্ভিস বন্ধ থাকে।

৮. কী কী পরীক্ষা করা যায় কোন ভবনে করবেন?

আউটডোর বা বর্হিবিভাগ ভবন ১ এবং ভবন ২ এর বেসমেন্টে ব্লাড টেস্ট কাউন্টার ও টাকা জমা দেওয়ার ব্যাংক রয়েছে। অর্থাৎ দুটি ভবনের বেসমেন্টে ব্লাড টেস্ট করতে পারবেন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত।

এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এই টেস্টগুলো করতে এফ ব্লকের নিচতলায় ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে টেস্ট করতে পারবেন। যে তুই পরীক্ষাগুলো সীমিত পরিসরে হয় সেক্ষেত্রে সকালেই গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে।

কোন পরীক্ষার খরচ কত বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একাধিক ভিডিও ও পোস্ট আমাদের পেইজে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।

৯ . হাসপাতালে যাওয়ার সময় যা মনে রাখবেন

সকালেই গেলে সুবিধা হতে পারে

NID/প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন

সব পুরোনো রিপোর্ট একটি ফাইলে রাখুন

নিয়মিত খাওয়া ওষুধের নাম লিখে নিন

ডাক্তারের কাছে প্রধান সমস্যাগুলো আগে বলুন

দালালের মাধ্যমে ডাক্তার দেখানোর চেষ্টা করবেন না
No comments:
Post a Comment
Please dont spam